জানুয়ারি-মার্চ

বিপির মুনাফা কমেছে ৭০ শতাংশ

এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি জায়ান্ট বিপির নিট মুনাফা কমেছে ৭০ শতাংশ।

এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি জায়ান্ট বিপির নিট মুনাফা কমেছে ৭০ শতাংশ। কোম্পানিটি মাঝে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে ঝুঁকলেও এখন জীবাশ্ম উৎসের দিকে ঝুঁকছে এবং বড় ধরনের কৌশলগত রদবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খবর ডেইলি সাবা।

ব্রিটিশ কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা ৭০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ২৩০ কোটি ডলার। নিট মুনাফা কমার পেছনে গ্যাস বিক্রিতে দুর্বলতা ও পরিশোধন মার্জিনের পতন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

একই সময়ে বিপির মোট আয় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ৪ শতাংশ কম।

সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের পতনের কারণে বিপি ও অন্যান্য কোম্পানি খারাপ সময় পার করছে। বিশ্লেষকদের একটি অংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা দেখা দিতে পারে, যা জ্বালানির চাহিদায়ও প্রভাব ফেলবে।

গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৫ ডলার, যেখানে এক বছর আগে ছিল প্রায় ৮৭ ডলার।

আয়ের বিবৃতিতে বিপির প্রধান নির্বাহী মারে অচিনক্লস বলেন, ‘আমরা বাজারের অস্থিরতা ও পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছি এবং দ্রুত এগিয়ে চলাই আমাদের লক্ষ্য।’

বর্তমানে হেজ ফান্ড এলিয়টের চাপের মুখে রয়েছেন অচিনক্লস। এ ধরনের অ্যাক্টিভিস্ট বিনিয়োগকারীরা সাধারণত মুনাফা বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর জন্য চাপ দিয়ে থাকে। বিপির প্রধান নির্বাহী ২০২৭ সালের মধ্যে ২ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ বিক্রির ঘোষণাও দিয়েছেন।

কার্বন নিঃসরণ হ্রাস নীতিকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করলেও বিনিয়োগকারীদের চাপের মুখে ফের জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বিপি। তবে জ্বালানি তেলের দামের সাম্প্রতিক পতন এ কৌশলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

বিপির সিদ্ধান্তে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো হতাশা প্রকাশ করেছে। কারণ কোম্পানির নতুন কৌশলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি কমিয়ে আনা হয়েছে।

আর্থিক ফলাফলে বিপি জানিয়েছে, প্রান্তিকপ্রতি শেয়ার পুনঃক্রয়ের লক্ষ্য কমিয়ে ৭৫ কোটি ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের দেয়া পূর্বাভাসের সর্বনিম্ন সীমা।

কোম্পানিটি এরই মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি অনুসন্ধান কর্মসূচি জোরদার করছে এবং আগামী তিন বছরে ৪০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরই ১৫টি কূপ খননের লক্ষ্য রয়েছে। সম্প্রতি তারা মার্কিন উপকূলের কাছাকাছি নতুন জ্বালানি তেল আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।

আরও